অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে ঘিরে এখনও সরগরম টেলিদুনিয়া। তালসারিতে ধারাবাহিকের আউটডোর শুটিং করতে গিয়েই মৃত্যু হয় অভিনেতার। সেই ঘটনার পর থেকেই প্রযোজক লীনা গঙ্গোপাধ্যায় ও শৈবাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ তৈরি হয় ইন্ডাস্ট্রির একাংশে। সাংবাদিক বৈঠক করে আর্টিস্ট ফোরাম ও ফেডারেশন যৌথভাবে ঘোষণা করেছিল, রাহুলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সামনে না আসা পর্যন্ত লীনা ও শৈবালের সঙ্গে কাজ করবেন না অভিনেতা এবং কলাকুশলীরা। এই পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন মোড় আসে। লীনার ছেলে এবং ‘কনে দেখা আলো’ ধারাবাহিকের প্রযোজক অর্ক গঙ্গোপাধ্যায় এবার আইনি পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, কোনও প্রমাণ ছাড়াই তাঁর মাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়েছে। আর সেই কারণেই ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে তাঁর প্রযোজনা সংস্থাকেও।
অর্ক গঙ্গোপাধ্যায় এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “শুটিং করতে গিয়ে ২৯ মার্চ তালসারিতে আকস্মিক মৃত্যু হয় অভিনেতা রাহুলের। যে ধারাবাহিকের আউটডোর শুট করতে গিয়ে তিনি মারা যান, তাঁর প্রযোজক আমার মা লীনা গঙ্গোপাধ্যায়। বিনা প্রমাণে আমার মাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে এই দু’টি সংগঠন।” তাঁর দাবি, এই ঘটনার জেরে চ্যানেল কর্তৃপক্ষও এখন তাঁর সঙ্গে কাজ করতে ভয় পাচ্ছেন। অর্ক জানান, তাঁর ধারাবাহিক ‘কনে দেখা আলো’র কাহিনিকার লীনা গঙ্গোপাধ্যায় এবং তিনি প্রযোজনা সংস্থারও অন্যতম সদস্য। সেই কারণেই সমস্যা আরও বেড়েছে। অর্কের কথায়, “আমার আরও দুটো ধারাবাহিক আনার কথা ছিল। আর্টিস্ট ফোরাম এবং ফেডারেশনের গুন্ডামিতে ভয় পেয়েই চ্যানেল কর্তৃপক্ষ পিছিয়ে গিয়েছেন।” শুধু তাই নয়, ১১ দিন শুটিং বন্ধ রাখার কারণেও আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁর।
অর্কের এই বিস্ফোরক অভিযোগের পর পাল্টা মুখ খুলেছে আর্টিস্ট ফোরামও। ফোরামের সহ সম্পাদক রানা মিত্র স্পষ্ট ভাষায় জানান, “কী ভাবে রাহুলের মৃত্যু, লীনাদি, শৈবালদার উন্নাসিকতা সবটা জানেন অর্ক। তার পরেও ওঁর যদি আইন আইন খেলতে মনে চায়, কী বলব আমরা?” তাঁর দাবি, সেই সময়ে লীনা ও শৈবাল যদি উদাসীনতা না দেখাতেন, তাহলে পরিস্থিতি এত দূর গড়াত না। পাশাপাশি অর্কের অভিযোগ যে ফোরাম ও ফেডারেশন অভিনেতা ও কলাকুশলীদের ভয় দেখিয়ে কাজ বন্ধ করিয়েছে, তা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন রানা। তিনি বলেন, “আর্টিস্ট ফোরাম গুন্ডামি করে বেড়ায় নাকি? নাকি গুন্ডা পোষে?” তাঁর বক্তব্য, এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে ভোটাভুটি হয়েছিল এবং যাঁরা কাজ করতে চেয়েছেন বা চাননি, তাঁরা লিখিতভাবেই মত জানিয়েছিলেন।
‘কনে দেখা আলো’ ধারাবাহিকের অভিনেতা সোমরাজ মাইতি, মৈনাক ঢোল, সাইনা চট্টোপাধ্যায় এবং নন্দিনী দত্তকে নাকি পেশাজীবন নষ্ট করে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন অর্ক। যদিও সেই অভিযোগও উড়িয়ে দিয়েছে ফোরাম। রানা মিত্রের কথায়, “যাঁরা কাজ করতে চেয়েছেন, তাঁরা লিখিত ভাবে জানিয়েছেন। যাঁদের আপত্তি, তাঁরাও। এখানে জোর করা, ভয় দেখানোর প্রশ্ন আসছে কী করে?” এই ঘটনার পর সংগঠনও কি আইনি পথে হাঁটবে, সেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে ইন্ডাস্ট্রিতে। রানা জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ফলে রাহুল মৃত্যুকাণ্ড ঘিরে টেলিদুনিয়ায় চাপা উত্তেজনা আরও বেড়েছে। দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে।
আরও পড়ুনঃ পর’কীয়া ও বহুবিবাহের পর, এক পুরুষকে নিয়ে মা-মেয়ের প্রেমযুদ্ধ! পারিবারিক সংস্কৃতির গায়ে ফের আঁচ’ড়! লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের নতুন মেগা ঘিরে নেটপাড়ায় ছিঃ ছিঃ রব! টিআরপির জন্য আর কতদূর? বি’ষ ঢালছেন পবিত্র সম্পর্কে?
এই পুরো ঘটনায় নাম জড়িয়েছে ফেডারেশনের প্রাক্তন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাসেরও। অর্ক প্রশ্ন তুলেছেন, আর্টিস্ট ফোরাম এবং ফেডারেশন দুটি আলাদা সংগঠন হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে তারা একসঙ্গে সিদ্ধান্ত নিল। কারণ, একটি সংগঠন অভিনেতাদের বিষয় দেখে, অন্যটি কলাকুশলীদের দায়িত্বে থাকে। এই প্রসঙ্গে স্বরূপ বিশ্বাস বলেন, “প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় ফিরুন। বিষয়টি আগে জেনে নিই। সবার সঙ্গে আলোচনা করি। তার পর না হয় পদক্ষেপ করার কথা ভাবব।” উল্লেখ্য, আর্টিস্ট ফোরামের কার্যকরী সভাপতি প্রসেনজিৎ বর্তমানে দিল্লিতে রয়েছেন। রাষ্ট্রপতি ভবনে ‘পদ্মশ্রী’ সম্মান নিতে গিয়েছেন তিনি। তাই পুরো বিষয়টি না জেনে এখনই মন্তব্য করতে চাননি অভিনেতা। সব মিলিয়ে রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুকে ঘিরে ইন্ডাস্ট্রির দ্বন্দ্ব এখন আরও প্রকাশ্যে চলে এসেছে।






